১৬০

লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় পথ হারিয়ে নৌকায় মারা যাওয়া ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মধ্যে ১২ জনই বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানান, এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ছয়জন, জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার একজন রয়েছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দালালদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

উদ্ধার হওয়া এক বাংলাদেশি যুবক জানান, নৌকাটি পথ হারিয়ে প্রায় ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে। এ সময় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়, যার কারণে অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়। মৃত ব্যক্তিদের লাশ দুই দিন নৌকায় রাখার পর সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

বর্তমানে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের গ্রিসের একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। গুরুতর আহত দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতদের বেশির ভাগই সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। পুলিশ, পরিবার ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দিরাই, জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দারা।

নিহতদের পরিবারে এখন শোকের মাতম চলছে। স্বজনদের দাবি, দালালদের প্রলোভনে পড়ে তারা অবৈধভাবে লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এ জন্য প্রত্যেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা করে পরিশোধ করেছিলেন বলে জানা গেছে।

নিহত এক ব্যক্তির বাবা আখলুছ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, দালালদের কারণেই তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও একাধিক মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

জানা গেছে, ছোট রাবারের নৌকায় সীমিত খাবার ও পানি নিয়ে লিবিয়া থেকে অভিবাসীদের গ্রিসে পাঠানো হয়। মাঝপথে নৌকাটি দিক হারিয়ে ফেললে সংকট আরও তীব্র হয় এবং একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।