১৬১

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত দুই দিনে এসব পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে দুজন বাংলাদেশি নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তিনটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে আয়োজিত এ বৈঠকে সম্ভাব্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ জারাহ জাবের আল আহমেদ আল সাবাহ, বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল মুরাইখি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে পৃথকভাবে টেলিফোন করেন। তাঁরা চলমান সংকট ও বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেন।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যু ও সাতজন আহত হওয়ার ঘটনায় কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা নিজ নিজ দেশে বিনা উসকানিতে আক্রমণকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির কথা জানানো হয়। পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর ফ্লাইট চালু হলে দ্রুততম সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে গমনেচ্ছু যাত্রীদের যাত্রা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়।

বৈঠকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংঘাতময় পরিস্থিতিতে অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তাই সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশিরা দেশের ভেতরে বা বিদেশে যেখানেই আক্রান্ত হোন না কেন, সরকার তাঁদের পাশে থাকবে। সরকারের সর্বোচ্চ জাতীয় স্বার্থ জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এ সংঘাতে আর কোনো বাংলাদেশি হতাহত হবেন না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় বাংলাদেশের অবস্থান প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের স্বার্থ রক্ষা করাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার। বাংলাদেশ মনে করে, যুদ্ধ বা সংঘাত কোনো সমাধান নয়। দ্রুততম সময়ে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানায় বাংলাদেশ। তিনি বলেন, যে আলোচনা স্থগিত ছিল, তা পুনরায় শুরু হওয়া প্রয়োজন।

ভিসা–সংক্রান্ত জটিলতা প্রসঙ্গে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। যাঁদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, তাঁদের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান সুস্পষ্ট—ঢাকা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় এবং কূটনীতির পথ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি এবং সেখানে যেতে ইচ্ছুক কিন্তু দেশে আটকে থাকা ব্যক্তিরা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে সিলেটের বড়লেখার সালেহ আহমেদ একটি বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে নিহত হন। সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ছাড়া বাহরাইনে একজন বাংলাদেশি নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মানামায় বাংলাদেশ মিশন ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।