২২১

দেশজুড়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে। সংস্থাটির কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপপরিষদের সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ১৯০ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১১৯ জন নারী এবং ৭১ জন কন্যাশিশু।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, মার্চ মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মোট ৫৭ জন নারী ও শিশু, যাদের মধ্যে ৩৫ জনই কন্যাশিশু। এছাড়া দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৪ জন, যার মধ্যে ৮ জন শিশু। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ধর্ষণের পর দুই শিশুসহ পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে।

একই সময়ে মোট ৪৭ জন নারী ও শিশু হত্যার শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ৩৯ জন নারী এবং ৮ জন শিশু। পাশাপাশি ১৭ জনের রহস্যজনক মৃত্যুর তথ্যও উঠে এসেছে, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

যৌতুকের কারণেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। মার্চ মাসে যৌতুক-সংক্রান্ত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৫ জন নারী, যাদের মধ্যে ৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। পারিবারিক কলহ ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও ছিল উল্লেখযোগ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক অবক্ষয় ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির প্রভাবে অনেকেই আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন। গত মাসে ৪ শিশুসহ মোট ১৪ জন আত্মহত্যা করেছেন। তাদের মধ্যে ৫ জন আত্মহত্যায় প্ররোচিত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া সাইবার সহিংসতা ও উত্ত্যক্তকরণের ঘটনাও বেড়েছে। মার্চ মাসে একজন নারী অ্যাসিড দগ্ধ হয়েছেন এবং একটি শিশুসহ তিনজন অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গৃহকর্মী হত্যার মতো অমানবিক ঘটনাও এই তালিকায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিদিন গড়ে ছয়জনের বেশি নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হওয়ার এই চিত্র একটি সভ্য সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা বলছেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনি কাঠামোর কার্যকর প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই এই সহিংসতার প্রবণতা কমানো সম্ভব। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সব স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি।