৪৯

দেশে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি শিক্ষিত যুবক বেকার রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এই বিপুল সংখ্যক বেকারের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা বর্তমান সরকারের জন্য অন্যতম প্রধান ও বড় চ্যালেঞ্জ।

আজ রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও চাকরির বাজারে সংকট

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ বছরে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পুনরুদ্ধার করতে কিছুটা সময় লাগবে। এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর এবং সেখানে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

চাকরির বাজারের ভয়াবহ চিত্র বর্ণনা করে তিনি বলেন, “বর্তমানে একটি চাকরির বিপরীতে ৫ থেকে ৬ লাখ আবেদন জমা পড়ছে। এমনকি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের ছোট পদেও হাজার হাজার আবেদন জমা এসেছে।” রাতারাতি এই বেকারত্ব দূর করা সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন।

সরকারের পথচলা ও শিক্ষা সংস্কার

দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই সরকারকে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলেও পরিবর্তনের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তবে এর পূর্ণ বাস্তবায়নে সময়ের প্রয়োজন।

শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী করার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাকে শুধু সনদসর্বস্ব না রেখে কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক করতে হবে। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার মাধ্যমেই নতুন কর্মসংস্থানের পথ উন্মুক্ত হবে। তিনি জানান, সরকার দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করেছে।

প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন ও জ্বালানি সংকট

ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতি হতে হবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে। গত ১৭ বছরে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সেই প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া জ্বালানি সংকটকে দেশের উন্নয়নের বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, ইরানে চলমান যুদ্ধের প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতে পড়তে পারে। তাই এখন থেকেই আমাদের বিকল্প জ্বালানি ও সবুজ জ্বালানির (Green Energy) ব্যবহারে বেশি জোর দিতে হবে। দেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।