৭৭

“একজন মানুষ চাইলে তার স্ত্রী পরিবর্তন করতে পারেন, কিন্তু প্রতিবেশী রাষ্ট্র পরিবর্তন করতে পারেন না। তাই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, সমমর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে।”—জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই বাস্তবধর্মী ও কৌশলগত মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

গত মঙ্গলবার রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ বিষয়ে বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও পররাষ্ট্রনীতির নানাদিক তুলে ধরেন।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’: দেশের স্বার্থই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অক্ষুণ্ন রেখেই বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, “প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কিংবা বাণিজ্যিক সহযোগিতার বিষয় সরকার এককভাবে নির্ধারণ করে না। আমাদের সংবিধান, জাতীয় পররাষ্ট্রনীতি এবং সংসদীয় আলোচনার ভিত্তিতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সরকারের মূল অঙ্গীকার হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। দেশের মর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কোনো সিদ্ধান্ত বা আপস বর্তমান সরকার কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবে না।

সীমান্তে কঠোর অবস্থান: অনুপ্রবেশের সুযোগ নেই

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলের বিভিন্ন উদ্বেগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, বিগত চার থেকে পাঁচ মাসে সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সরকারি নথিভুক্ত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, এই সময়ের মধ্যে কাউকেই অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি সক্রিয় ও তৎপর রয়েছে। দেশের নিরাপত্তা রক্ষার্থে প্রয়োজন হলে সীমান্তে হামলার জবাবে পাল্টা গুলিও চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান

বক্তব্যের শেষাংশে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়ে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “সংসদে রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিংবা আদর্শিক লড়াই থাকতেই পারে; তবে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়।”

জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দেশের সব রাজনৈতিক পক্ষ ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।