১৬৩

দীর্ঘ চার মাস পর আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। তাঁর জন্মস্থান মাশহাদ শহরের শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র স্থান ইমাম রেজার (আ.) সমাধির পাশে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে।

এর আগে গত শুক্রবার থেকে তাঁর রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথম তিন দিন সাধারণ জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছিল তেহরানের ঐতিহ্যবাহী গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে। এরপর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় পবিত্র কোম শহরে।

ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় লাখো মানুষের শেষ শ্রদ্ধা

কোম শহরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ বিমানে করে আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহ প্রতিবেশী দেশ ইরাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নাজাফ ও কারবালা শহরের হাজার হাজার মানুষ এই বর্ষীয়ান ধর্মীয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। নাজাফে আয়োজিত বিশাল শোকযাত্রায় লাখো মানুষের ঢল নামে।

নাজাফের শোকযাত্রা শেষে আলী খামেনির মরদেহ ইসলামের চতুর্থ খলিফা হজরত আলী (রা.)-এর পবিত্র সমাধি প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় নেতারা তাঁর জানাজায় অংশ নেন। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কারবালার পবিত্র প্রান্তরে। সেখানেও জানাজা ও অন্যান্য ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে গত রাতে আবারও ইরানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে তাঁর মরদেহ।

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ ৪ মাস স্থগিত ছিল দাফন

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক যৌথ হামলায় পরিবারের চার সদস্যসহ নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় এত দিন তাঁর দাফন স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছিল ইরান প্রশাসন।

পরবর্তীতে দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনার পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি সমঝোতা স্মারক সই হয়। অঞ্চলটিতে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার পর অবশেষে আজ তাঁর দাফনের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়। আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাশহাদ শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং বিশ্বনেতাসহ লাখ লাখ অনুসারী সেখানে সমবেত হচ্ছেন।