১৯৪

ভারতের অরুণাচল প্রদেশে কয়েক কিলোমিটার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন ও বিস্তীর্ণ এলাকা দখলের অভিযোগ উঠেছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগকে ‘ভুল ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের আদিবাসীদের সংগঠন ‘নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ অভিযোগ করেছে, চীনা সেনাবাহিনী ভারতীয় ভূখণ্ডে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করেছে এবং স্থানীয়দের ঐতিহ্যগত চারণভূমি ও কৃষিজমিতে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

সংগঠনটির সভাপতি কেরু চাদের জানান, তাদের পূর্বপুরুষরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকাগুলোতে শিকার, কৃষিকাজ ও পশুচারণ করতেন। তবে ২০২০ সাল থেকে চীনা বাহিনী এসব এলাকায় স্থায়ী অবস্থান গড়ে তোলায় স্থানীয়দের সেখানে যাওয়া কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির দাবি, আপার সুবনসিরির তাকসিং রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন অন্তত পাঁচটি এলাকায় চীন ধীরে ধীরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করছে। এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে আসাফিলা, ওয়িং, মারপান, পোত্রাং ও টিনডিংতাং। স্থানীয়দের মতে, কয়েকটি এলাকা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে ভারতীয় সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশে চীনা সেনাবাহিনীর অনুপ্রবেশ ও ঘাঁটি স্থাপনের অভিযোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সঠিক নয় এবং এসব দাবির কোনো ভিত্তি নেই।

নাচো এলাকার বিধায়ক নাকাপ নালো বলেছেন, বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় অভিযোগগুলো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ উদ্বেগের কারণ এবং যথাযথ তদন্ত জরুরি।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত জেলা প্রশাসন কিংবা অরুণাচল প্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।