৩৮

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আগামী বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) শুরু হচ্ছে। প্রথম দিনে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে মাদরাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডে এইচএসসির (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।

এ বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৬ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছেন। সারা দেশের দুই হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে তারা পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৩১০টি কেন্দ্রে তিন লাখ ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেবেন। এছাড়া রাজশাহী বোর্ডে এক লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, দিনাজপুর বোর্ডে এক লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, যশোর বোর্ডে এক লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ৯৪ হাজার ৮০২ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেট বোর্ডে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশাল বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে এক লাখ সাত হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবেন।

এদিকে, পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজন করতে শিক্ষা বোর্ডগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থী প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল নজরদারিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষ পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো কক্ষে দুজনের কম পরিদর্শক রাখা যাবে না। এছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা শুরুর আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র যাচাই, ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের প্রহরায় কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পরিবহন এবং নির্ধারিত সেট কোড অনুসরণে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষাকেন্দ্রে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও কাঁটাযুক্ত ঘড়ি ছাড়া অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এছাড়া পরীক্ষা চলাকালে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের কেন্দ্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ, টয়লেট তল্লাশি, প্রশ্ন ও উত্তরপত্র পরিবহনে পুলিশের সম্পৃক্ততা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র আলাদাভাবে সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা উপলক্ষে শিক্ষা বোর্ডগুলো কন্ট্রোল রুমও চালু করেছে।