১০৩

বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত অতিথি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অপচয় রোধ করা গেলে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম এক দিনেই ১০ শতাংশ কমে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মো. শাহাদাত হোসেন।

গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সামাজিক অনুষ্ঠানে বৃত্তবৈভবের অশ্লীল প্রদর্শনী

বক্তব্যের শুরুতেই সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের সমালোচনা করে মো. শাহাদাত হোসেন বলেন,

“বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে, বিয়ে-শাদীতে আমরা দেখেছি, বৃত্তবৈভবের অশ্লীল প্রদর্শনীতে কী পরিমাণ অপচয় হয়। এটা একেবারে কল্পনার বাইরে। গায়ে হলুদের কোরিওগ্রাফি দিয়ে নৃত্য করার জন্য এক মাস পর্যন্ত ট্রেনিং নেওয়া হয়। এই সব অনুষ্ঠানে ব্যাপকভাবে অর্থ ব্যয় করা হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ-গানে হাজার হাজার মানুষ এসে সেখানে অংশগ্রহণ করে। যা খায়, তার অর্ধেকের বেশি অপচয় হয়। এই অপচয়টাকে যেকোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে।”

অতিথি প্রতি ১ হাজার টাকা ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব

অপ্রয়োজনীয় খরচ ও খাবারের অপচয় রুখতে অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোর করার দাবি জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন,

“এর আগে একটা অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন ছিল যে, ১০০ জনের বেশি অতিথি হলেই সেখানে একটা ট্যাক্স ধরা হতো। আমরা প্রস্তাব করছি, আগামী বাজেটে ১০০ জনের অতিথির বাইরে প্রতি অতিথির জন্য এক হাজার টাকা করে ট্যাক্স নির্ধারণ করতে হবে।”

তিনি দৃঢ়তার সাথে যোগ করেন,

“বিশ্বাস করুন বন্ধুরা, যদি বিয়ে-শাদীতে বৃত্তবৈভবের এই ধরনের অশ্লীল প্রদর্শনী ও অপচয়টা বন্ধ করা হয়, তাহলে এক দিনেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ১০ শতাংশ কমে আসবে।”

বাজেট আলোচনায় দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের স্বস্তি ফেরাতে এই ধরনের বিলাসী অপচয় রোধে সরকারকে দ্রুত আইনগত ও রাজস্ব সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।