১৬৯

একটানা দীর্ঘ সময় গণপরিবহন চালানোর কারণে চালকদের ক্লান্তি, ঝিমুনি ও ঘুমের প্রবণতা বাড়ছে, যা প্রতিনিয়ত মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এসব দুর্ঘটনায় চালক, কন্ডাক্টর, যাত্রী ও পথচারীদের ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা মেনে গণপরিবহন চালানোর জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

আজ শনিবার (২৩ মে) বিআরটিএর সদর কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা ও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

পাঁচ ঘণ্টার পর আধা ঘণ্টার বিশ্রাম বাধ্যতামূলক

বিআরটিএর বিজ্ঞপ্তিতে দেশের বিদ্যমান মোটরযান আইন ও বিধিমালার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, কোনো গণপরিবহন চালক কোনোভাবেই একটানা ৫ ঘণ্টার বেশি যানবাহন চালাতে পারবেন না। ৫ ঘণ্টা গাড়ি চালানোর পর চালককে অবশ্যই অন্তত আধা ঘণ্টা (৩০ মিনিট) বাধ্যতামূলক বিশ্রাম দিতে হবে। এই বিশ্রামের পর একজন চালক দিনে আরও সর্বোচ্চ ৩ ঘণ্টা গাড়ি চালাতে পারবেন।

অর্থাৎ, আইন অনুযায়ী একজন চালক দিনে সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা এবং সপ্তাহে সর্বমোট ৪৮ ঘণ্টার বেশি কোনো অবস্থাতেই গাড়ি বা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

অমান্য করলে লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন বাতিল

বিআরটিএ স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্ধারিত এই কর্মঘণ্টার ব্যত্যয় ঘটিয়ে বা অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের আশায় চালকদের বিশ্রাম না দিয়ে একটানা গণপরিবহন চালালে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অকাল মৃত্যু প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সকল মোটরযান মালিক ও চালকদের এই নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, যদি কোনো মালিক বা চালক বিআরটিএর এই নির্দেশনা অমান্য করেন, তবে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving License) এবং ওই যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন (Registration) সম্পূর্ণ বাতিল করা হবে।

এছাড়া পবিত্র ঈদুল আজহার এই সময়ে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে চালক, মালিক ও যাত্রীদের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের (Central Control Room) নির্ধারিত নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে বিআরটিএ।