১৮৫

ঢাকার আশুলিয়ায় আধিপত্য বিস্তার ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই ভাইকে গুলি করেছে মোটরসাইকেলে আসা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। পৃথক দুটি স্থানে অতর্কিত এই হামলা চালিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে তারা। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ছয়তলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ দুই ভাই হলেন— মো. ইসমাইল (৩৫) ও মো. শিপন (৩২)। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পরিকল্পিত হামলা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছয়তলা এলাকার ‘ভার্চুয়াল’ পোশাক কারখানার পাশের একটি গলিতে বসে ছিলেন ইসমাইল। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা একদল সশস্ত্র যুবক তাকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলি ছোড়ে। এতে তার পিঠ ও ডান পায়ে গুলি লাগে এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

এর ঠিক কিছুক্ষণ পরই দুর্বৃত্তদের ওই দলটি স্থানীয় পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের পেছনে গিয়ে ইসমাইলের ছোট ভাই শিপনের ওপর হামলা চালায়। ঘাতকদের ছোড়া গুলিতে শিপনের ডান উরু ঝাঁঝরা হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুই ভাইয়ের ওপর মিশন চালিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

নেপথ্যে ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ

স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ছয়তলা এলাকায় ডিশ (ক্যাবল টিভি) ও ইন্টারনেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং আধিপত্য বিস্তার ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছিল। এর জের ধরেই এই জোড়া হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ী সবুজ সরকার বলেন, “শিপন আমার সাথেই কাজ করত। কারা, কেন এই নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে তা বুঝতে পারছি না। পুলিশ সঠিক তদন্ত করলেই আসল অপরাধীদের চেহারা বের হয়ে আসবে।”

চিকিৎসকদের বক্তব্য ও বর্তমান অবস্থা

আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশিদ জানান, রাতে আহত দুজনকে হাসপাতালে আনা হলে তাদের শরীরে গুলির স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যায়। দুজনের শরীর থেকেই প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় এবং অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে মনে হচ্ছে ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে এই হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে।

ওসি আরও জানান, আহতদের চিকিৎসার প্রয়োজনে ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করায় এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা করতে আসেননি। তবে পুলিশ পরিবারের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। এই ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের মাধ্যমে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।