২২১

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মো. রিয়াদ রশিদ নামের এক যুবক রাশিয়ায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত রিয়াদ রশিদ (২৮) উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা এবং জাফরাবাদ উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রিয়াদের বন্ধু লিমন দত্ত মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানান। লিমন নিজেও রাশিয়ায় একই ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। ওই হামলায় তিনি একটি পা হারিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

লিমনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ২ মে রুশ সীমান্ত এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনী ড্রোন হামলা চালায়। এতে রিয়াদসহ দুই বাংলাদেশি ও একজন নাইজেরীয় নাগরিক নিহত হন। এছাড়া আহত হন আরও তিনজন।

পরিবারের দাবি, রিয়াদ গত বছরের অক্টোবরে একটি কোম্পানির কাজে রাশিয়ায় যান। পরে গত ৭ এপ্রিল তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তাঁর ব্যাচ নম্বর ছিল ৭৩৫। তবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি পরিবার আগে থেকে জানত না।

ছেলের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন বাবা আব্দুর রশিদ। তিনি বলেন,
“সে যে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে, তা আমাদের জানায়নি। জানলে কখনোই তাকে সেখানে যেতে দিতাম না। এখন শুনছি ড্রোন হামলায় সব শেষ হয়ে গেছে। আমি আমার ছেলের লাশেরও সন্ধান পাচ্ছি না।”

রিয়াদের চাচাতো ভাই জহিরুল ইসলাম জানান, গত ২৮ এপ্রিল পরিবারের সঙ্গে রিয়াদের শেষ কথা হয়। ২৯ এপ্রিল রাত ১০টা পর্যন্ত তাঁকে মেসেঞ্জারে অনলাইনে দেখা গিয়েছিল।

জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহতের পরিবারের খোঁজ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার সুযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির জানান, পুলিশ রিয়াদ রশিদের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।