৩৯

ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো যানবাহন চলাচল বন্ধ, সামনের কাচে ফিটনেস সনদ দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় দ্রুত সাড়া দেওয়া দল গঠন এবং গণপরিবহনে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

রোববার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক জনস্বার্থের রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই রুল জারি করেন। সড়ক পরিবহন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ফিটনেস সনদ ও সড়ক নিরাপত্তার নির্দেশনা

রুলে ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের চলাচল বন্ধ করে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রতিটি যানবাহনের সামনের কাচে ফিটনেস সনদ দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা ও উদাসীনতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও নজরদারি ব্যবস্থা

আদালত সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রুল জারি করেছেন:

  • জরুরি সাড়া দল: দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় পুলিশ ও অগ্নিনির্বাপণ (ফায়ার সার্ভিস) বাহিনীর সমন্বয়ে দ্রুত সাড়াদানকারী দল (Rapid Response Team) গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না।
  • ক্যামেরা স্থাপন: গণপরিবহনে অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে বাসের ভেতরের ও বাইরের সর্বদিক ধারণক্ষম ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না।
  • অবৈধ রূপান্তর বন্ধ: একতলা বাসকে অবৈধভাবে দোতলা বাসে রূপান্তর ঠেকানোর নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না।

ক্ষতিপূরণ ও রিট আবেদনের পটভূমি

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের বসন্তপুর এলাকায় সেন্টমার্টিন পরিবহনের একটি বাস দুর্ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে তিনি নিজেই হাইকোর্টে জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি করেন। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী।

রুলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ওই আইনজীবীকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও জবাব চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ চেয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদনটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।