২০৪

চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনেই রাজধানী ঢাকায় অন্তত ১৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে ঢাকায় মোট ১০৭টি খুনের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে মার্চে ৩৩টি, ফেব্রুয়ারিতে ৩৮টি এবং জানুয়ারিতে ৩৬টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশেও একই সময়ে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা উদ্বেগজনক। তিন মাসে দেশজুড়ে মোট ৮৫৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৮৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০টি এবং মার্চে ৩১৭টি হত্যাকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে।

চলতি মাসেও দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রাঙামাটিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে ধর্মসিং চাকমা নিহত হওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ওই ঘটনায় আরও দুই নারী গুরুতর আহত হন।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের মুখপাত্র এএইচ এম শাহাদাৎ হোসাইন জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জামিনে বেরিয়ে আসা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনেকেই আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কেউ বিদেশে বসে চাঁদাবাজি ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করছে, আবার কেউ দেশে থেকে তাদের হয়ে কাজ করছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডার দখল, দখলবাজি ও সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি, না হলে হত্যাকাণ্ডসহ অপরাধ পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।