২০০

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজার-সংলগ্ন দিঘিতে একটি কুকুরকে কুমিরে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের দাবি—ঘটনাটি নিয়ে যেসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তার বড় অংশই অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর।

ঘটনাটি ঘটে গত ৮ এপ্রিল বিকেলে মাজার প্রাঙ্গণে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি অসুস্থ (সম্ভবত জলাতঙ্ক আক্রান্ত) কুকুর আচমকা কয়েকজন মানুষ, এমনকি শিশুকেও কামড় দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। কুকুরটির আচরণ ছিল অস্বাভাবিক ও আক্রমণাত্মক।

এক পর্যায়ে স্থানীয়রা কুকুরটিকে লাঠি দিয়ে তাড়া করলে সেটি দৌড়ে দিঘির প্রধান ঘাটের দিকে চলে যায়। এ সময় সেখানে দায়িত্বরত ছিলেন নিরাপত্তাকর্মী মো. ফোরকান হাওলাদার। তিনি জানান, কুকুরটি হঠাৎ এসে তার পায়ে আঁচড় দেয়। আতঙ্কিত হয়ে তিনি পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি ভারসাম্য হারিয়ে দিঘির পানিতে পড়ে যায়।

তিনি বলেন, “কুকুরটি পানিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাড়ে ওত পেতে থাকা একটি কুমির সেটিকে টেনে পানির নিচে নিয়ে যায়। ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে, কিছু করার সুযোগই ছিল না।”

ঘটনার পর ফোরকান হাওলাদার বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে গিয়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে ঘটনাটির একটি খণ্ডিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা ভাইরাল হয়ে যায়। লাখ লাখ ভিউ ও শেয়ারের পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর দাবি ছড়াতে শুরু করে। একটি চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ব্যবহার করে দাবি করে, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট দেখানো হয়নি। কেবল কুমিরের শিকার করার অংশটুকু দেখিয়ে ঘটনাকে বিকৃত করা হয়েছে।

স্থানীয় যুবক মেহেদী হাসান (তপু) জানান, দিঘিতে থাকা মাদী কুমিরটি সম্প্রতি ডিম পেড়েছে, যার ফলে এ সময় কুমির অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, “এ অবস্থায় পানিতে পড়ে যাওয়া কোনো প্রাণীকে বাঁচানো সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।”

মাজারের খাদেমরা এ ঘটনায় অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মাজারের ঐতিহ্য ক্ষুণ্ন করতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। তারা সকলকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, দিঘিতে থাকা কুমিরটি ২০০৫ সালে ভারত থেকে আনা হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে এটি মাজার এলাকার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত।