২৩১

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় সাত বছরের এক শিশুকে অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার দায়ে তিনজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং আরও দুজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সালাহউদ্দিন, মো. শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবান মিয়া এবং খন্দকার ওমর ফারুক। বয়স বিবেচনায় ১০ বছর করে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. রমজান ও সাদ্দাম। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কাউসার ও নাজমা আক্তার নামের দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–৪–এর বিচারক মুন্সী মো. মশিউর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে প্রত্যেক দণ্ডিত ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্তদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বর্তমানে দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম ও খন্দকার ওমর ফারুক কারাগারে আছেন। পলাতক সালাহউদ্দিন, রমজান ও সাদ্দামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মো. উমেদ আলীর সাত বছর বয়সী ছেলে নিয়ামুল বাড়ির বাইরে খেলতে গেলে আসামিরা তাকে কামরাঙ্গীরচর থানার পাকাপুল রোডের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অঙ্গহানি করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করা হয়। পরে রাতের দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা দায়ের করে।