২৫৫

সৌদি আরবে দফায় দফায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশটিতে অন্তত দেড় ডজন ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সৌদি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রেখে অন্তত ১৮টি আক্রমণাত্মক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মন্ত্রণালয় তাদের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে জানায়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত ড্রোনগুলো শনাক্ত করে সফলভাবে ধ্বংস করেছে। এ ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, ওপেনএআই, ওরাকল ও এনভিডিয়ার সহযোগিতায় নির্মাণাধীন ‘স্টারগেট’ এআই কেন্দ্রটিকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ইরানের দাবি, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় তারা পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার রাখে এবং ওই স্থাপনাকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে।

এছাড়া ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, কুয়েতে আল-আদিরি ঘাঁটি, বাগদাদ ও উত্তর ইরাকের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। উত্তর ইরাকে ইরানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর পাঁচটি অবস্থানে আঘাত হানার কথাও জানানো হয়।

এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি ইসরায়েলি-সম্পৃক্ত ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র এবং ইসরায়েলের তেল আবিব, হাইফা, বেয়ার শেবা ও পেতাহ টিকভাসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি।

তবে এসব হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।