৫৯

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত মাসে শুরু হওয়া ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ-এর মধ্যে চলমান সংঘাতে মোট প্রাণহানির সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে।

শনিবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা যায়, দক্ষিণ লেবাননের সিদন শহরের কাছে একটি গ্রামে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং আরও ৯ জন আহত হয়েছেন। এর আগে নাবাতিয়েহ জেলায় পৃথক হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন জরুরি সেবাকর্মী ছিলেন।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২,০২০ জন নিহত এবং ৬,৪৩৬ জন আহত হয়েছেন। ওই সময় হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে ইসরাইলের দিকে রকেট হামলা শুরু করলে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালায়।

এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াইয়ে দুই ইসরাইলি সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরাইলি গণমাধ্যম। দেশটির চ্যানেল ১৩-এর বরাতে বলা হয়, প্যারাট্রুপার্স ব্রিগেডের ওই দুই সদস্য সংঘর্ষে শার্পনেলের আঘাতে মাঝারি ধরনের আহত হন।

এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন-এর কার্যালয় জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে লেবানন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বৈঠকে বসবেন। সেখানে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে হিজবুল্লাহ সরাসরি আলোচনার বিরোধিতা করেছে। সংগঠনটির নেতা ও সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ এ ধরনের আলোচনা সংবিধান ও জাতীয় চুক্তির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন।

অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবাননের সঙ্গে যে কোনো শান্তি চুক্তি দীর্ঘস্থায়ী হতে হবে এবং তাতে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হলেও তা লেবাননে ইসরাইলের হামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না—তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

এদিকে রাজধানী বৈরুতে শত শত মানুষ হিজবুল্লাহর সমর্থনে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে আলোচনার বিরোধিতা করেছেন। তারা লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো অগ্রগতি না থাকায় পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।