১৭৩

ঢাকার কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পে আবারও ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইছে সরকার। তবে পূর্বে অতিরিক্ত ব্যয় প্রস্তাবের কারণে অন্তর্বর্তী সরকার এই প্রক্রিয়া বাতিল করেছিল।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাপানি ঠিকাদাররা কিলোমিটারপ্রতি যে ব্যয় প্রস্তাব করেছে, তা সরকারের প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে প্রায় ৯৭ শতাংশ বেশি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১,৮৩৯ কোটি টাকা, কিন্তু ঠিকাদারদের প্রস্তাবে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩,৬১৮ কোটি টাকায়।

ঢাকার উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণে যেখানে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা প্রতি কিলোমিটারে, সেখানে নতুন এই প্রকল্পে ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।

ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের অধীনে কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত অংশটি পাতালপথে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ৩১ কিলোমিটারের বেশি, যার মধ্যে নর্দ্দা থেকে পূর্বাচল অংশ উড়ালপথে হবে।

প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা, তবে ঠিকাদারদের দর অনুযায়ী তা বেড়ে প্রায় ৯৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিযোগিতা সীমিত থাকায় ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। জাপানি ঋণদাতা সংস্থা জাইকার শর্ত অনুযায়ী দরপত্র প্রক্রিয়ায় বিদেশি প্রতিযোগিতা সীমিত হওয়ায় ব্যয় কমানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে প্রকল্পের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হতো।

এদিকে জাইকা জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্প এগিয়ে নিতে কাজ করছে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অবকাঠামো ব্যয় বাড়লেও প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিবর্তিত রয়েছে।