১৮০

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। কবে, কখন এবং কোন প্রক্রিয়ায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত করা হবে—সে সিদ্ধান্তও এখনো দলীয়ভাবে চূড়ান্ত নয়। তবে আসন্ন নির্বাচনের কারণে দ্রুতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিএনপিকে।

দলীয় সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির ভেতরে সবচেয়ে সংবেদনশীল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বাচনী প্রচারে কার ছবি ব্যবহার করা হবে। কারণ, নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী, মনোনীত প্রার্থীরা শুধু বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি ব্যানার, ফেস্টুন ও প্রচারপত্রে ব্যবহার করতে পারবেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে অনেক প্রার্থী ব্যানার, বিলবোর্ড ও ডিজিটাল পোস্টার তৈরি করেছেন, যেখানে খালেদা জিয়ার ছবি রয়েছে। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর এ বিষয়ে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। ফলে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় বিএনপি নেতৃত্ব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, নির্বাচনী পোস্টারে দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গত ৩০ ডিসেম্বর সকালে খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শেষে বর্তমানে বিএনপির সাত দিনের শোক কর্মসূচি চলছে, যা শেষ হবে ৫ জানুয়ারি। এ সময়ে সারা দেশে দোয়া ও মোনাজাতের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও শোকের পরিবেশ বিবেচনায় বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনলেও বাস্তবে দলের সব সিদ্ধান্ত ও কৌশল তারেক রহমানকে কেন্দ্র করেই নির্ধারিত হচ্ছে। সময়মতো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।