২৩০

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে প্রবাসীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নতুন নীতির আওতায় আগামী জুন মাস থেকে বিদেশি কর্মীদের ভিসা পেতে আগের তুলনায় অনেক বেশি বেতন দেখাতে হবে এবং কিছু ক্ষেত্রে ন্যূনতম বেতনের সীমা প্রায় দ্বিগুণ করা হচ্ছে।

ভারত থেকে মালয়েশিয়ায় আসা ব্যবসায়িক পরামর্শক সঞ্জিত (ছদ্মনাম) বলেন, দীর্ঘদিন দেশটিতে বসবাসের পর তিনি মালয়েশিয়াকে নিজের ঘরবাড়ি বলেই মনে করতেন। তবে নতুন সিদ্ধান্তে তাঁর মতো অনেক প্রবাসীর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত আসায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত সঞ্জিত বলেন, দেশটির সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে সহজেই অভ্যস্ত হওয়া যায়। কিন্তু নতুন নিয়মে ভিসার জন্য বেতন সীমা বাড়ানো এবং নিয়োগকর্তাদের স্পনসরশিপের মেয়াদ সীমিত করা হয়েছে, যা প্রবাসীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ নিয়ন্ত্রণে ভিসার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মাসিক ন্যূনতম বেতন ৩ হাজার থেকে ২০ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত নির্ধারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়োগকর্তারা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য—কিছু ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১০ বছর—বিদেশি কর্মীদের স্পনসর করতে পারবেন।

মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ বলছে, এই নীতির উদ্দেশ্য বিদেশি কর্মীদের প্রবেশ বন্ধ করা নয়, বরং স্থানীয় কর্মীদের সুযোগ বাড়ানো এবং অর্থনীতিতে দক্ষতা বৃদ্ধি করা। তবে নতুন এই পরিবর্তন অনেক বিদেশি কর্মী ও কোম্পানির জন্য বাড়তি খরচ ও জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে কম বেতনের বিদেশি শ্রমিক নির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো চাপে পড়তে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মীরা বিকল্প দেশ খোঁজার চিন্তাও করতে পারেন।t