১১৯

হাদি হত্যার মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু

ঢাকা: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ বিন ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রবিবার (৮ মার্চ) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করেছে। সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয় এবং পরে আদালতে হাজির করে পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই এবং পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম **‘এই সময়’**ও তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

হত্যাকাণ্ডের পেছনের কাহিনী

গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন বক্স কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি ওসমান হাদিকে গুলি করে গুরুতর আহত করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ফয়সাল ও আলমগীর হত্যাকাণ্ডের পর সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে যান। দীর্ঘদিন তারা আত্মগোপন করলেও বাংলাদেশি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও ভারতের ভূমিকা

সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিএফআই’র নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ভারত সফর করেন। সফরের সময় তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিসহ সব সন্ত্রাসীকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানান। ভারতের পক্ষ স্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দুই আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়।

এছাড়া, বাংলাদেশের অনুরোধে ভারতে বসে দেশবিরোধী প্রচারণাকারীদের বিরুদ্ধেও সাঁড়াশি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এই সমন্বয়কে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও নিরাপত্তামূলক সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করছে।

আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া

বর্তমানে ভারতীয় হেফাজতে থাকা ফয়সাল ও আলমগীরকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, দেশে ফেরানোর পর হত্যাকাণ্ডের মামলা দ্রুত এগোবে এবং বিচার প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।

ফয়সাল ও আলমগীরের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সফল হলে এটি দেশের বিচার ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনার পর দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় অস্থিরতা দেখা দেয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। আসামিদের গ্রেপ্তার ও দেশে ফেরানো হলে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকও মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দার সক্রিয় ভূমিকার কারণে এই ঘটনা বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করবে।