১১২

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের মধ্যে বান্দরবানের লামা উপজেলায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে মাটি ও ঘরের দেয়ালচাপা পড়ে একই পরিবারের তিনজনসহ মোট পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের পরিচয়

পাহাড়ধসে নিহতরা হলেন— ১. মো. ইউনুস (৪০) ২. রানু আক্তার (৩৫) (মো. ইউনুসের স্ত্রী) ৩. মো. সোলেমান (৫) (এই দম্পতির পাঁচ বছর বয়সী ছেলে) ৪. মো. জুয়েল (৩৪) (পৃথক পাহাড়ধসে নিহত) ৫. কুলছুমা আক্তার (২৫) (মো. জুয়েলের স্ত্রী)

উদ্ধার অভিযান ও পুলিশ প্রশাসন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোররাতে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ বিকট শব্দে পাহাড়ের বিশাল মাটির স্তূপ ও দেয়াল ধসে ঘরের ওপর পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা চিৎকার শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং উদ্ধারকাজে হাত দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একই এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় এক শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সব কটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

এদিকে গত কয়েকদিনের টানা রেকর্ডভাঙা বৃষ্টির কারণে লামাসহ বান্দরবানের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করেছে। মাতামুহুরী নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও লোকালয়, যার ফলে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

টানা বর্ষণ ও বন্যার কারণে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে এবং মুঠোফোন নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে ও নিচু এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটবর্তী নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য বারবার মাইকিং ও জোর আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে অনেক বাসিন্দা এখনো নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনীহা প্রকাশ করায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে।