২১১

সিলেট নগরীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যাওয়া এক চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে সাহসিকতার সাথে ঝাপটে ধরে আটকাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সদস্য ইমন আচার্য। গত শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

র‍্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহীদুল ইসলাম সোহাগ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত ইমন আচার্য র‍্যাব-৯-এ কর্মরত ছিলেন।

ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বুকে ছুরিকাঘাত

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে সিলেট নগরীর তোপখানা এলাকায় এক পথচারীর মালামাল ছিনতাই করে পালাচ্ছিল এক ছিনতাইকারী। এ সময় কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল তাকে ধাওয়া করে। ঠিক ওই মুহূর্তেই ব্যক্তিগত জরুরি কাজে সাদা পোশাকে (সিভিল ড্রেস) তোপখানা এলাকায় অবস্থান করছিলেন র‍্যাব সদস্য ইমন আচার্য।

পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ছিনতাইকারীটি ইমনের সামনে দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তাকে ঝাপটে ধরেন। এ সময় ছিনতাইকারীর সাথে তার তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে নিজেকে মুক্ত করতে ছিনতাইকারীটি তার কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে ইমন আচার্যের বুকের বাঁ পাশে সজোরে আঘাত করে। ছুরিটি সরাসরি তার হৃৎপিণ্ডের কাছাকাছি বিদ্ধ হলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু ও ঘাতক আটক

গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয় জনতা ও উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ইমনকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে অস্ত্রোপচার ও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর দুপুর দেড়টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এদিকে, র‍্যাব সদস্যকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা ও ধাওয়াকারী পুলিশ সদস্যরা চারপাশ থেকে ঘেরাও করে অভিযুক্ত ঘাতক ছিনতাইকারীকে ঘটনাস্থল থেকেই রক্তাক্ত ছুডিসহ হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়।

সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “আটককৃত ছিনতাইকারী একজন পেশাদার অপরাধী। তাকে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একজন সাহসী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দেশের প্রচলিত আইনে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত র‍্যাব সদস্যের মরদেহ তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে র‍্যাব সদস্যের এই অকাল ও বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগে সহকর্মী এবং স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।