৪৩

রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে উদ্ধার করা শক্তিশালী একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বা পাইপ বোমা ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ একটি ফোল্ডিং ছাতার ভেতর অত্যন্ত অভিনব কৌশলে আইইডিটি বসানো ছিল। পুলিশের ধারণা, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টোরথ যাত্রাকে লক্ষ্য করে এবং বড় ধরনের নাশকতা চালিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে বোমাটি পাতা হয়েছিল। তবে সময়মতো সেটি শনাক্ত হওয়ায় এক বড় ধরনের বিপর্যয় ও রক্তপাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

ছাতার বোতাম টিপলেই ঘটে যেত বিস্ফোরণ

ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া আইইডিটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী এক ‘পাইপ বোমা’। ফোল্ডিং ছাতার ভেতরে ব্যাটারি ও সার্কিটের সমন্বয়ে এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যেন কেউ কৌতূহলবশত ছাতার বোতামে চাপ দিলেই সঙ্গে সঙ্গে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে।

বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের এক কর্মকর্তা জানান, আইইডিটির ভেতরে এক কেজিরও বেশি সালফার, প্রচুর তারকাঁটা এবং ধারালো লোহার টুকরো ও বিয়ারিংয়ের বল ছিল। ফলে এটি বিস্ফোরিত হলে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটতে পারত।

যেভাবে শনাক্ত হলো ‘ছাতা বোমা’

গত শুক্রবার বিকেলে পুরান ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে শুরু হওয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টোরথ যাত্রাটি ঢাকেশ্বরী, শহীদ মিনার, প্রেস ক্লাব, দৈনিক বাংলা মোড় হয়ে স্বামীবাগ ইসকন আশ্রমের দিকে যাচ্ছিল। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে শোভাযাত্রাটি দৈনিক বাংলা মোড় থেকে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ দিয়ে শাপলা চত্বরের দিকে যাওয়ার সময় স্টেশনের পাশে থাকা জেনারেটরের কাছে একটি পরিত্যক্ত ছাতার ভেতর থেকে মিটমিট করে আলো জ্বলতে দেখে কর্তব্যরত পুলিশ।

প্যানিক এড়াতে কৌশল ও নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ

শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যেন আতঙ্ক ছড়িয়ে না পড়ে (প্যানিক সৃষ্টি না হয়), সে জন্য পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পুরো ঘটনাটি তৎক্ষণাৎ গোপন রাখে। সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা ‘শর্ট সার্কিট হয়েছে’ বলে সতর্কবার্তা দিয়ে শোভাযাত্রাকে জায়গাটি পাশ কাটিয়ে নিরাপদে পার করে দেন।

রথ যাত্রা এলাকা অতিক্রম করার পর ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সেটিকে বোমা হিসেবে শনাক্ত করে। পরবর্তীতে রাত সাড়ে আটটার দিকে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে আইইডিটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।

মামলা দায়ের ও তদন্তের অগ্রগতি

এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলার সূত্রে বলা হয়, পরিকল্পিতভাবে জনজীবন বিপন্ন করা ও দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যেই বোমাটি সেখানে স্থাপন করা হয়েছিল।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, প্রাথমিক তদন্তে উল্টোরথ যাত্রাকে কেন্দ্র করে নাশকতার চেষ্টার ইঙ্গিত মিলছে। তবে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় রক্ষা হয়েছে। পুলিশ ছাড়াও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও গোয়েন্দা সংস্থা এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে এবং ছায়াতদন্ত শুরু করেছে।