৪৫

ভারতের উত্তর প্রদেশের আলিগড়ে ভিনজাতের যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ২০ বছর বয়সী এক আইন শিক্ষার্থীকে স্বজনদের হাতেই হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, হত্যার পর তথ্যপ্রমাণ মুছে ফেলতে রাতের আঁধারে তাড়াহুড়ো করে ওই শিক্ষার্থীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করার অভিযোগও উঠেছে পরিবারের বিরুদ্ধে।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় নিহতের প্রেমিক হর্ষিত বর্ষ্ণেয়ের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নিহতের মা, দুই ভাই ও দুই মামাসহ পরিবারের ৫ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

নিহত শিক্ষার্থী ও প্রেমের পটভূমি

নিহত তরুণীর নাম হিমানশি চৌধুরী। তিনি আলিগড়ের গোন্ডা এলাকার বাসিন্দা এবং বিএ-এলএলবি (আইন বিভাগ) শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গোন্ডা এলাকার একটি মেডিকেল স্টোর পরিচালনকারী হর্ষিত বর্ষ্ণেয়ের সঙ্গে হিমানশির দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা দুজন শিগগিরই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে ভিন্ন জাতের হওয়ায় হিমানশির পরিবারের সদস্যরা এই সম্পর্ক কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না এবং বিয়ের ইচ্ছার কথা জানালে হিমানশির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।

পূর্ববর্তী নির্যাতন ও সিসিটিভি ফুটেজ

হর্ষিত অভিযোগে জানান, গত ১৫ মার্চ পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে হিমানশি পালিয়ে তাঁর মেডিকেল স্টোরে আশ্রয় নেন। তখন সেখানে গিয়ে হিমানশির পরিবারের দুজন সদস্য তাঁকে বেদম মারধর করেন। পুরো এই নির্যাতনের ঘটনাটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড হয়।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হর্ষিত, হিমানশি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের থানায় নিয়ে যায়। সেসময় লিখিত মুচলেকা ও অঙ্গীকারনামা নিয়ে হিমানশিকে তাঁর পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। তবে হিমানশি হর্ষিতকে আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন—সম্পর্ক না ভাঙলে যেকোনো সময় তাঁদের দুজনেরই বড় ধরনের ক্ষতি করা হতে পারে।

অনলাইন ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

হর্ষিতের অভিযোগ, গত ২৩ জুলাই রাতে পরিবারের সদস্যরা মিলে হিমানশিকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন এবং বিষয়টি গোপন করার জন্য তড়িঘড়ি করে রাতের অন্ধকারেই তাঁর মরদেহ দাহ (শেষকৃত্য) করে ফেলেন।

আলিগড়ের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি) নীরজ জাদৌন জানিয়েছেন, হর্ষিতের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা, প্রমাণ নষ্ট এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক ৫ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।