৪৯

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও তাণ্ডব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি ফিলিস্তিনিদের একাধিক যানবাহনে হামলা চালিয়েছে বসতি স্থাপনকারীরা। একই সঙ্গে এক ফিলিস্তিনি নাগরিকের ব্যক্তিগত গাড়ি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের এই ধরনের হিংসাত্মক হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সড়ক অবরোধ ও যানবাহনে হামলা

ফিলিস্তিনি সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ওয়াফা’ (WAFA)-র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পশ্চিম তীরের সালফিত ও কালকিলিয়া গভর্নরেটকে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নেয় একদল সশস্ত্র ও বেপরোয়া বসতি স্থাপনকারী। তারা সড়কটিতে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং যাতায়াতকারী যানবাহন লক্ষ্য করে পাথর ও লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। তবে এই হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে।

চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ও গেট বন্ধ

হামলার পাশাপাশি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সহায়তায় ফিলিস্তিনিদের যাতায়াতে কড়াকড়ি ও বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। ওয়াফার তথ্যমতে, কালকিলিয়ার পূর্বে অবস্থিত ‘আন-নবি ইলিয়াস’ গ্রামের প্রবেশপথে থাকা লোহার গেটটি বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে করে সাধারণ ফিলিস্তিনি নাগরিকদের স্বাভাবিক চলাচলে প্রচণ্ড বিঘ্ন ও চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

মানবাধিকারকর্মীর দাবি: গাড়ি ছিনতাই

অন্যদিকে, তুবাসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ‘খিরবেত আল-রাস আল-আহমার’ এলাকায় এক ফিলিস্তিনি নাগরিকের ওপর হামলা চালিয়ে গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী আরেফ দারাঘমেহ ওয়াফাকে জানান, সুলেইমান জামিল বানি ওদেহ নামে এক ফিলিস্তিনি নাগরিককে মাঝরাস্তায় আটকে দেয় বসতি স্থাপনকারীরা। পরে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার ব্যক্তিগত গাড়িটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায় তারা।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জমি ও সম্পদ দখলের পাশাপাশি এই ধরনের হামলা ও গাড়ি ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা দিন দিন অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠছে, যা সেখানকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে।