৫৫

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় একটি বাড়ি থেকে বিষধর গোখরা সাপ উদ্ধার করতে গিয়ে সাপের কামড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ইমরান হোসেন (৩৮) নামে এক সাপুড়ে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত সাপ ধরার ভিডিও প্রকাশ করে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন।

গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার গোলাপনগর ইউনিয়নের বাগগাড়ি পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত ইমরান ভেড়ামারা উপজেলার হিড়িমাদিয়া গোরস্তান পাড়ার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আগের দিন ছেলের মৃত্যু, পরদিন সাপুড়ে আক্রান্ত

স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বাগগাড়ি পাড়া এলাকার আমিরুল ইসলামের বাড়িতে গত বৃহস্পতিবার সাপের কামড়ে তাঁর একমাত্র ছেলে সম্রাট মারা যান। এই ঘটনার পর পুরো পরিবার চরম আতঙ্কে ভুগছিল। পরবর্তীতে বাড়ির ভেতর সাপের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সাপুড়ে ইমরান হোসেনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে ইমরান ওই বাড়িতে গিয়ে উঠানের একটি গর্ত খুঁড়ে প্রথমে তিনটি সাপের বাচ্চা উদ্ধার করেন। এরপর গর্ত থেকে একটি বড় গোখরা সাপ বের করে আনার সময় অসাবধানতাবশত সাপটি ইমরানের হাঁটুর ওপরে ছোবল দেয়। সাপটি ধরার মাত্র দেড় মিনিটের মাথায় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে ইমরান জানান। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

ভিজিটিং কার্ড ঘিরে বিতর্ক

ঘটনার পর সাপুড়ে ইমরানের একটি ভিজিটিং কার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। কার্ডটিতে তিনি নিজেকে সাপুড়ে হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাপ ধরা ও সাপের বিষ ঝাড়ার পাশাপাশি কবিরাজি কায়দায় বিভিন্ন জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসার দাবিও করেছেন।

হাসপাতালের বক্তব্য ও সচেতনতার পরামর্শ

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান জানান, “হাসপাতালে আনার পর ইমরানকে দ্রুত অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং তিনি সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত।”

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জেলাজুড়ে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। তাই সাপের ছোবলে আক্রান্ত হলে ওঝা-সাপুড়ের কাছে গিয়ে ঝাড়ফুঁক বা অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার নামে সময় নষ্ট না করে, যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য তিনি সর্বসাধারণের প্রতি জোর পরামর্শ দেন।