৫৮

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কথিত “ফ্রি ভিসা” বা স্পন্সরবিহীন কাজের প্রলোভনে গিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অসংখ্য বাংলাদেশি কর্মী। মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে বিদেশে গেলেও সেখানে গিয়ে অনেকেই প্রতিশ্রুত চাকরি পান না। কাজের সন্ধানে দীর্ঘদিন ঘুরে বেড়ানোর পর অনেকে অবৈধভাবে কাজ করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হয়ে মাসের পর মাস কারাভোগের পর নিঃস্ব অবস্থায় দেশে ফিরতে হচ্ছে তাদের।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দেশে থাকা কিছু অসাধু দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সি “ফ্রি ভিসা”র নামে উচ্চ বেতনের চাকরি ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগের আশ্বাস দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু বিদেশে পৌঁছানোর পর দেখা যায়, কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তা নেই, কাজও নিশ্চিত নয়। ফলে দিনমজুরের মতো কাজ খুঁজতে গিয়ে অনেকেই প্রতারণা, বেতন বঞ্চনা ও মানবেতর জীবনযাপনের শিকার হন।

কর্মীরা জানান, বিপদে পড়লে বাংলাদেশ দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সহযোগিতা চাইতে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সহায়তা পাওয়া যায় না। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া, ভাষাগত সমস্যা এবং আর্থিক সংকটের কারণে অনেকেই দেশে ফিরতে বাধ্য হন। কেউ কেউ আবার মাসের পর মাস আটক থাকলেও দ্রুত আইনি সহায়তা পান না বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রি ভিসার নামে অনিয়ন্ত্রিত জনশক্তি পাঠানো শুধু শ্রমিকদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে না, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদাও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অনেক দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বৈধ শ্রমবাজারের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশগামী কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, বৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং বিদেশে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর সেবার মান উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার আগে সরকারি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে চুক্তিপত্র, চাকরির সত্যতা ও ভিসার ধরন যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এতে প্রতারণা কমবে এবং শ্রমিকদের অধিকারও আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত হবে।