২১৫

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাত্র ১০ টাকা চাঁদা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মো. মমিন (৪০) নামে এক অটোরিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। ঘাতকের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী নিহতের মরদেহ নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।

নিহত মো. মমিন উপজেলার নাজিরপুর এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে। তিনি স্থানীয় দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

মাত্র ১০ টাকার জন্য লাঠির আঘাত

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৭ মে) বিকেলে দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ডে দায়িত্ব পালনকারী কথিত লাইনম্যান শাহিন অটোচালক মমিনের কাছ থেকে নিয়ম অনুযায়ী ১০ টাকা চাঁদা আদায় করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই শাহিন আবারও মমিনের কাছে চাঁদা দাবি করলে মমিন পুনরায় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি ও তর্কবিতর্ক শুরু হয়।

একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে লাইনম্যান শাহিন তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে মমিনের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। লাঠির আঘাতে মাথায় গুরুতর চোট পেয়ে ঘটনাস্থলেই মমিন অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন ও অন্য চালকরা মমিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় দুই দিন পর গত বুধবার (২০ মে) সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ ও গণঅসন্তোষ

বুধবার সকালে মমিনের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছানোর সাথে সাথে ক্ষুব্ধ স্বজন ও শত শত এলাকাবাসী হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহ নিয়ে এসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দড়িকান্দি অংশে অবস্থান নেন। এ সময় তারা ঘাতক শাহিনের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন এবং মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। দীর্ঘ অবরোধের কারণে মহাসড়কে আটকা পড়ে হাজার হাজার যানবাহন, যাতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় প্রকাশ্যে প্রতিটি অটো ও সিএনজি থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। চালকরা এর প্রতিবাদ করলে প্রায়ই তাদের মারধর ও লাঞ্ছিত হতে হয়, অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

পুলিশের আশ্বাস ও আইনি পদক্ষেপ

খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশের একটি বিশাল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সাথে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিলে দুপুরের পর বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত লাইনম্যান শাহিন এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছেন।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “গত ১৭ মে চাঁদার টাকা নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে এবং মমিন মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন। আমরা ঘটনাটি জানার সাথে সাথেই নিয়মিত মামলা রুজু করেছিলাম। বুধবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ঘাতক শাহিনসহ এই চাঁদাবাজি ও মারধরের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”