২০৯

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক সাবেক পৌর কাউন্সিলরের বাড়ি থেকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভিজিএফের ৬৩০ কেজি (১২ বস্তা ও খুচরা ৩০ কেজি) চাল উদ্ধার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদের নেতৃত্বে বোয়ালমারী পৌরসভার আঁধারকোঠা গ্রামে এই অভিযান চালানো হয়।

অভিযুক্ত আব্দুস সামাদ খান বোয়ালমারী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং স্থানীয় জামায়াত নেতা হিসেবে পরিচিত।

গোপন সংবাদে মধ্যরাতে অভিযান

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারের বরাদ্দ দেওয়া চাল অবৈধভাবে মজুত করা হচ্ছে—এমন একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাতে সাবেক কাউন্সিলর সামাদ খানের বাড়ির নিচতলায় ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে ঘর থেকে ৫০ কেজি ওজনের ১২টি সিলগালাকৃত বস্তা এবং খুচরা আরও ৩০ কেজিসহ মোট ৬৩০ কেজি সরকারি চাল জব্দ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযানে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। রাতেই জব্দকৃত সরকারি চালের বস্তাগুলো পৌরসভার হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাবেক ওই কাউন্সিলরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সরকারি চাল জব্দ করা হয়েছে। চালগুলো আপাতত সরকারি হেফাজতে পৌরসভায় রাখা হয়েছে। যেহেতু এটি সরকারি চাল এবং তা ব্যক্তিগত বাসভবনে রাখার নিয়ম নেই, তাই এই ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও ইমাম পরিষদের ব্যাখা

এদিকে অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে চুরির বা অবৈধ মজুতের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সামাদ খান। তিনি দাবি করেন, “প্রতি বছরই কোরবানির ঈদে স্থানীয় ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সুবিধার্থে তাঁদের চালগুলো সংগ্রহ করে সামাদ খানের বাড়িতে এনে রাখা হয়। এর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো অনৈতিক বা ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা নেই। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও সামাজিক মর্যাদাহানি করতেই এই ঘটনাটিকে চুরির নাটক হিসেবে সাজানো হয়েছে।”

সামাদ খানের বক্তব্যের সপক্ষে বোয়ালমারী ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি সাহেব আলী সাংবাদিকদের জানান, “বিকেলে পৌরসভা থেকে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাঝে বিতরণের জন্য যে ভিজিএফের চাল দেওয়া হয়েছিল, দূর-দূরান্ত থেকে আসা ইমামদের সুবিধার্থে সেগুলো এনে সামাদ সাহেবের বাড়িতে নিরাপদে রাখা হয়েছিল। আগামী সোমবার (২৫ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে এই চাল সবার মাঝে বণ্টন করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই প্রশাসন এসে কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই না করেই চালগুলো নিয়ে যায়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইমামদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণের সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও স্থান রয়েছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে কোনো ব্যক্তির বাসভবনে সরকারি চাল মজুত রাখার বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।