৮৯

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় ৮ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে এক বিশাল লিচু বাগান, যেখানে রয়েছে ২০০-এরও বেশি গাছ। বর্তমানে প্রতিটি গাছেই থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল টকটকে রসালো লিচু। তবে এই বাগানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এখানকার লিচু খেতে একটি টাকাও লাগে না। যে কেউ চাইলে বাগানে ঢুকে ইচ্ছেমতো লিচু পেড়ে খেতে পারেন।

ব্যতিক্রমী ও মানবিক এই লিচু বাগানটি তৈরি করেছেন পাবনা জেলার অন্যতম পরিচিত মুখ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কৃষিবিদ মোস্তফা জামাল শামীম। উপজেলার আলোকদিয়ার গ্রামে অবস্থিত তাঁর এই বাগানের এমন উদার আয়োজন দেখতে ও লিচুর স্বাদ নিতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন অসংখ্য দর্শনার্থী।

পাখি ও মানুষের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত মরণফাঁদহীন বাগান

সাধারণত ফল পাকার মৌসুমে বাগানে জাল, বেড়া বা পাহারাদারের কড়া নজরদারি থাকে। কিন্তু কৃষিবিদ মোস্তফা জামালের এই বাগানে কোনো বেড়া বা জালের বালাই নেই। মানুষ তো বটেই, প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখি কিংবা অন্য কোনো বন্যপ্রাণী যেন নির্বিঘ্নে ফল খেতে পারে, সেজন্য পুরো বাগানটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীরা বাগানমালিকের এই উদার ও পরিবেশবান্ধব মানসিকতার জন্য তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করছেন।

সমাজসেবায় অনন্য এক ব্যক্তিত্ব

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকার সাধারণ মানুষ, হতদরিদ্র, দর্শনার্থী ও বন্ধু-স্বজনদের একটু আনন্দের খোরাক জোগাতে এবং ফলের স্বাদ দেওয়ার চিন্তা থেকেই তিনি এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। মোস্তফা জামাল শামীম পাবনা শহরের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ‘কিমিয়া সেন্টার’-এর স্বত্বাধিকারী। শুধু এই বাগানই নয়, এলাকায় চিকিৎসা সেবা, গরিব শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি ও মেধাবৃত্তি প্রদান, ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ এবং অসহায় মানুষদের কিডনি ও হার্টের চিকিৎসার ব্যবস্থা করাসহ নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে তিনি এক নামে পরিচিত। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি পাবনা শহরের প্রাণকেন্দ্র আব্দুল হামিদ সড়কে অবস্থিত পাবনা কলেজে কৃষি বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষকতা করছেন।

দর্শনার্থীদের ভিড় ও উচ্ছ্বাস

বাগান ঘুরে দেখা গেছে, নানা জাতের লিচুর ভারে নুয়ে পড়েছে গাছের ডালপালা। প্রতিদিন দর্শনার্থীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে আসছেন, গাছ থেকে পেড়ে তাজা লিচু খাচ্ছেন এবং সময় কাটাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই যুগে যেখানে বাণিজ্যিক লাভের কথা সবাই প্রথমে ভাবেন, সেখানে এমন নিছক আনন্দ ও পরোপকারের জন্য ৮ বিঘার বাগান উন্মুক্ত করে দেওয়া সত্যিই এক বিরল দৃষ্টান্ত।