২৫২

ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিকে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখে আসছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো। তবে ইরান দাবি করছে, এই প্রযুক্তির একটি অংশ ব্যবহৃত হচ্ছে চিকিৎসা ও মানবিক কাজে, বিশেষ করে নবজাতক শিশুদের রোগ নির্ণয়ে।

বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বলা হয়, ইরানে পারমাণবিক প্রযুক্তি-ভিত্তিক কিছু ল্যাব সিস্টেম ব্যবহার করে জন্মের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই শিশুদের মধ্যে ৫০টির বেশি ধরনের বংশগত বিপাকজনিত রোগ শনাক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে অ্যামিনো অ্যাসিড সমস্যা, ফ্যাটি অ্যাসিড অক্সিডেশন ডিজঅর্ডার এবং ইউরিয়া সাইকেল ত্রুটির মতো জটিল রোগ রয়েছে।

ইরানের ফার্স প্রদেশে বছরে প্রায় ৫৪ হাজার নবজাতকের এই ধরনের স্ক্রিনিং করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পরীক্ষার জন্য শিশুর গোড়ালি থেকে সামান্য রক্ত নিয়ে ট্যান্ডেম মাস স্পেকট্রোমেট্রি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই পরীক্ষায় ব্যবহৃত কিছু রেডিওআইসোটোপ—বিশেষ করে মলিবডেনাম-৯৯ থেকে উৎপন্ন টেকনেশিয়াম-৯৯এম—তৈরিতে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া ভূমিকা রাখে, যা বিশ্বজুড়ে ক্যানসার ও হৃদরোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।

তবে পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রযুক্তির এই অগ্রগতি ভবিষ্যতে সামরিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহৃত হতে পারে। অন্যদিকে ইরান বলছে, তাদের কর্মসূচির একটি বড় অংশই চিকিৎসা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি এখনো আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি স্পর্শকাতর ইস্যু, যেখানে একই প্রযুক্তিকে একদিকে নিরাপত্তা হুমকি এবং অন্যদিকে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সহায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে।