১৯৪

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট চুলের কাটিং বা ‘হেয়ার স্টাইল’ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে নিয়ম না মানলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিটন উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়, যা বিদ্যালয়ের দেয়ালে টাঙানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত মডেলের মতো চুল কেটে বিদ্যালয়ে আসতে হবে। নোটিশে একটি নির্দিষ্ট ধরনের চুলের কাটিংয়ের ছবি সংযুক্ত রয়েছে, যা অনেকটা ‘আর্মি কাট’-এর মতো। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত হাত-পায়ের নখ কেটে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের’ অভিযোগে শাস্তির আওতায় আনা হবে। নোটিশে বিশেষ দ্রষ্টব্য হিসেবে বলা হয়েছে, সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশক্রমেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. লিটন উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এটি কোনো চাপ নয়, বরং প্রশাসনিক নির্দেশনার অংশ।

অন্যদিকে, সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না জানান, শিক্ষার্থীদের নিয়ম-শৃঙ্খলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মানুবর্তিতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ছাত্রদের ছোট চুল রাখা শৃঙ্খলারই অংশ, আর নিয়মিত নখ কাটা ও পরিচ্ছন্ন থাকা বিদ্যালয় জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম। বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

এ ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ এটিকে শৃঙ্খলা রক্ষার ভালো উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।