২৬৫

রাজধানীতে যানজট কমাতে অবৈধ বাস কাউন্টার ৭ দিনের মধ্যে সরানোর নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ সিদ্ধান্তে যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্যকর সমাধানের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা ও উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা।

সড়কে দীর্ঘদিনের যানজট ও বিশৃঙ্খলা কমাতে অবশেষে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। ডিএমপি জানিয়েছে, গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ছাড়া রাজধানীর অন্য কোথাও আন্তঃজেলা বাস কাউন্টার রাখা যাবে না।

রাজধানীর ব্যস্ত এলাকা কল্যাণপুর, কলাবাগান, আরামবাগ, মালিবাগ, কমলাপুর ও গোলাপবাগসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ কাউন্টার গড়ে উঠেছে। দিনে এসব কাউন্টার বড় সমস্যা তৈরি না করলেও রাতে যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ডিএমপির উপকমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, অনুমোদনহীন এসব কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি ও যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে, যা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। তাই সাত দিনের মধ্যে এগুলো সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, হঠাৎ এ সিদ্ধান্তে তাদের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। অনেক যাত্রীকে দূরের টার্মিনালে গিয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হলে সময় ও খরচ বাড়বে।

অন্যদিকে অনেক যাত্রী ও নগরবাসী মনে করছেন, ফুটপাত দখলমুক্ত হলে চলাচল সহজ হবে এবং যানজট কমবে। নির্দিষ্ট টার্মিনাল থেকে টিকিট বিক্রি হলে শৃঙ্খলা ফিরতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কাউন্টার উচ্ছেদ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, পরিকল্পনা হতে হবে মানুষের সুবিধা বিবেচনায়। সহজ ও উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে এই উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না।

সব মিলিয়ে, অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদে কিছুটা স্বস্তি এলেও দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব নির্ভর করবে সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ওপর।