১০৬

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলা অনশন ও বিক্ষোভ আন্দোলন আরও জোরালো রূপ নিয়েছে। আজ বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকেই অনশনমঞ্চে শিক্ষার্থী, তরুণ, সমাজকর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের ঢল নামতে দেখা যায়।

আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ সোনম ওয়াংচুক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও অনশন অব্যাহত রেখেছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা যন্তর মন্তর ছাড়বেন না।

সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও ছড়াচ্ছে সংহতি

দিল্লির এই আন্দোলনের রেশ এখন আর কেবল ভারতের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাজ্যের লন্ডন, আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ও সান হোসেতে অবস্থানরত প্রবাসী ভারতীয় ও মানবাধিকারকর্মীরা একই দাবিতে সংহতি কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা অনতিবিলম্বে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলেন।

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে রাহুলের অবস্থান, বিরোধী জোটে উত্তাপ

এদিকে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত মঙ্গলবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

পরে পুলিশ তাঁকে আটক করলে তিনি সেখান থেকেই সরকারের কাছে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেন। তাঁর দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

  • কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ।
  • আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার।
  • বলপ্রয়োগকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
  • সরকারের প্রকাশ্য দুঃখপ্রকাশ ও সংসদে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা।

এছাড়া রাজ্যসভাতেও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির প্রধান সচেতক নাদিমুল হক শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনার দাবিতে নোটিশ দিয়েছেন। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্রও প্রকাশ্যে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মহুয়া মৈত্র যন্তর মন্তরে উপস্থিত হয়ে অনশনকারীদের সঙ্গে দেখা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

কণ্ঠরোধের অভিযোগ ও বর্তমান পরিস্থিতি

আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র সৌরভ দাস অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনের বার্তা যাতে না ছড়িয়ে পড়ে সেজন্য তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এভাবে বাধার সৃষ্টি করে কি আন্দোলনকারীদের কণ্ঠ রোধ করা সম্ভব?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষাব্যবস্থার জবাবদিহির দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু হলেও বর্তমানে এটি বৃহত্তর একটি রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। পুলিশের ভূমিকা এবং বাকস্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নতুন ঘোষণা আসেনি, তবে দেশ-বিদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ায় সার্বিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।