১৭০

হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে বড় পরিসরে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে সরকার। বর্তমানে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৪৯৫টি উপজেলায় ৫৫ লাখ পরিবারকে মাত্র ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ১০ লাখ টন চালের বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের অষ্টম দিনে নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ওবায়দুল্লাহ সালাফীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান খাদ্যমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

সংসদে খাদ্যমন্ত্রী জানান, বছরে ছয় মাস—আগস্ট থেকে নভেম্বর এবং মার্চ ও এপ্রিল—এই কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ১০ লাখ টন চালের সংস্থান রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দরিদ্র মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ভিটামিন সমৃদ্ধ ‘পুষ্টিচাল’ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৪৮টি উপজেলায় ৫ মাসব্যাপী প্রায় ৩.৭ লাখ টন পুষ্টিচাল সরবরাহ করা হচ্ছে।

বাজারদর নিয়ন্ত্রণে ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) কার্যক্রমের আওতায় ১২টি সিটি কর্পোরেশন, ১৪টি শ্রমঘন জেলা এবং ৫২টি জেলা সদরের মোট ১,০৯১টি কেন্দ্রের মাধ্যমে সুলভ মূল্যে খাদ্যশস্য বিক্রি করা হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা, খোলা আটা ২৪ টাকা এবং ২ কেজির প্যাকেট আটা ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় ৪১৮টি উপজেলার ৮৩৬টি কেন্দ্রে প্রতিদিন ৪০৬ টন চাল ৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। ওএমএস খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ লাখ টন চাল ও ৫.২৫ লাখ টন গমের বাজেট রয়েছে।

মো. আব্দুল বারী জানান, টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারীদের জন্যও খাদ্য অধিদপ্তর থেকে চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৬৭ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি পরিবারের মধ্যে প্রতি মাসে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার হতদরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বাজারমূল্য সহনীয় রাখতে এসব কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।