৪৯

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার দেওয়া এক বিতর্কিত বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা–৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক যে অর্থের কথা বলছেন, তা কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয়নি; বরং সেটি সংশ্লিষ্ট উপজেলার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি বাজেট।

একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসকের বক্তব্য মূলত সরকারি বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি বড় বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।

প্রেক্ষাপট ও প্রশাসকের অভিযোগ

এর আগে গত শনিবার (৩০ মে) দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এক বিস্ফোরক অভিযোগ করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি নেতা মো. মোস্তাক মিয়া। তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা এবং এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন। মোস্তাক মিয়া কুমিল্লা বিএনপির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্বরত আছেন।

ব্যয়ের পূর্ণ হিসাব প্রকাশের আহ্বান

এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন,

“এই টাকা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে দেওয়া হয়নি। এটি কোনো ব্যক্তিকে দেওয়ার বিষয়ই নয়, বরং উপজেলা পর্যায়ে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এটি স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি বিশেষ বরাদ্দ, যা এডিপি (ADP) প্রকল্পের মাধ্যমে জেলা পরিষদের মাধ্যমে ব্যয় করা হয়েছে।”

তিনি জানান, দেবীদ্বার উপজেলাকে এই বিশেষ খাত থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ কোন কোন খাতে কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তার বিস্তারিত তালিকা জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি স্বচ্ছতার স্বার্থে সেই ব্যয়ের পূর্ণ হিসাব প্রকাশ্যে আনার আহ্বান জানান।

‘মানুষের জন্য ভিক্ষা করতেও আপত্তি নেই’

জেলা পরিষদ প্রশাসকের সমালোচনা করে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, পুরো বিষয়টি এমনভাবে সাধারণ মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন অর্থটি আমরা ব্যক্তিগত স্বার্থে পকেটে পুরেছি। অথচ এটি সম্পূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ এবং এর সাথে রাজস্ব খাতের কোনো সম্পর্ক নেই।

জনকল্যাণে নিজের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে হাসনাত আবদুল্লাহ আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,

“স্থানীয় উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন হলে আমি সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আমি আমার উপজেলার মানুষের জন্য কোথাও যদি ভিক্ষা চাইতেও হয়, সেটি করতে আমার বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। কারণ, আমি নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নয়, এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য রাজনীতি ও কাজ করি।”