৬৯

লিবিয়ার বেনগাজী শহরের বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটকে পড়া আরও ১৭০ জন বাংলাদেশি নাগরিক অবশেষে দেশে ফিরেছেন। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোর ৫টায় বুরাক এয়ারের (Buraq Air) একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) এবং লিবিয়া সরকার।

দালাল চক্রের প্ররোচনা ও নির্যাতনের শিকার

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ফেরত আসা প্রবাসীদের সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যাবর্তনকারী বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশই দালাল চক্রের প্ররোচনায় প্রলুব্ধ হয়ে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের অনেকেই স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের হাতে অপহরণ ও অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হন। পরবর্তীতে লিবীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে তারা বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে মানবেতর দিন কাটাচ্ছিলেন।

বিমানবন্দরে মানবিক সহায়তা

ভোরে ঢাকায় পৌঁছানোর পর ফেরত আসা এই বাংলাদেশিদের সরকারি কর্মকর্তা এবং আইওএম-এর প্রতিনিধিরা বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান। আইওএম-এর পক্ষ থেকে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা, জরুরি খাবার, বাড়ি ফেরার পথখরচা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সাময়িক বা অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘ বন্দিদশা ও অনিশ্চয়তা শেষে নিজ দেশে ফিরতে পেরে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

মানবপাচার রোধে সচেতনতার আহ্বান

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারের ভয়াবহ ঝুঁকি সম্পর্কে দেশীয় স্তরে জনসচেতনতা বাড়াতে ফেরত আসাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারা যেন সমাজে নিজেদের তিক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিজ্ঞতাগুলো তুলে ধরেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এভাবে দালালের খপ্পরে পড়ে জীবন ঝুঁকিতে না ফেলেন।

মন্ত্রণালয় আরও নিশ্চিত করেছে যে, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে এখনও আটকে থাকা বাকি বাংলাদেশিদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাস নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো অত্যন্ত নিবিড়ভাবে একসাথে কাজ করে যাচ্ছে।