১১৩

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার বালিচাঁদা কোনাপাড়া গ্রামের মৃত শরাফত আলীর ছেলে মো. আশরাফুল আলম বাবুলের কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে প্রায় ৮ লাখ টাকা নেন একই ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের মৃত তালেব হোসেনের ছেলে মো. ছায়েদ মিয়া।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ছায়েদ মিয়া ভ্রমণ ভিসায় বাবুলকে বিদেশে পাঠিয়ে পরবর্তীতে আকামা দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর বাবুল নানা নির্যাতনের শিকার হন। একপর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে নিজ খরচে দেশে ফিরে আসেন তিনি।

দেশে ফেরার পর বাবুল টাকা ফেরত চাইলে ছায়েদ মিয়া তা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এরই মধ্যে গত ২৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ডাকা হলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

এর পরদিন রাতে ছায়েদ মিয়ার বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগ তুলে বাবুল মিয়া ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।

স্থানীয়দের দাবি, পাওনা টাকা পরিশোধ এড়াতেই মিথ্যা ও বানোয়াট ডাকাতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা বলেন, বাবুল মিয়ার বাড়ি থেকে অভিযুক্ত বাড়িতে যেতে বড় নদী পার হতে হয়, যা নৌকা ছাড়া সম্ভব নয়—এ কারণে ডাকাতির অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে মনে করছেন তারা।

এ ঘটনায় সুহেল মিয়া বাদী হয়ে নেত্রকোনা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে বাবুলসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে (মামলা নং ৯(১)/২৬)। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে, গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী বাবুল মিয়া নেত্রকোনা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে দাবি করেন, তাকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার।