১৬৩

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উপসাগরীয় একাধিক দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে সক্রিয় রয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা মূলত ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রতিহত করার সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যক্রমের ফল।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বর্তমানে ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে।

অন্যদিকে, কুয়েতও জানিয়েছে যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সকাল থেকে ইরানের ছোড়া একাধিক ড্রোন প্রতিহত করছে। কুয়েতি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এসব ড্রোনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট লক্ষ্য করে ছোড়া হয়, যার ফলে অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা তীব্র শত্রুতাপূর্ণ হামলার জবাবে মোট ২৮টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।

এদিকে, বাহরাইনও ইরানের হামলার অভিযোগ করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, একটি ড্রোন প্রতিহত করার সময় এর ধ্বংসাবশেষ সিত্রা এলাকায় পড়ে দুইজন নাগরিক সামান্য আহত হন এবং কয়েকটি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বাহরাইনের রাজধানী মানামায় সকালে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং সিত্রা দ্বীপে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে, যেখানে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলো অবস্থিত।

এর আগে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, একটি স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা তারা নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে স্থাপনাটির নির্দিষ্ট অবস্থান উল্লেখ করা হয়নি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।

এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দেশটির লাভান দ্বীপের একটি তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা আগে ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে ইরান। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত ব্যাহত হয়েছে, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়ে থাকে।