৬৬

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগো শহরের একটি ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই নৃশংস হামলায় মসজিদের নিরাপত্তা প্রহরীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলের অদূরে একটি গাড়ি থেকে দুই সন্দেহভাজন হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হামলার পর তারা নিজেরাই নিজেদের গুলি করে আত্মহত্যা করেছে। এ নিয়ে ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সান ডিয়েগোর ক্লেয়ারমন্ট এলাকায় অবস্থিত কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ওই কমপ্লেক্সটিতে মসজিদের পাশাপাশি শিশুদের একটি ইসলামিক বিদ্যালয়ও রয়েছে।

নামাজের আগে আচমকা হামলা

সান ডিয়েগো পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার জোহরের নামাজের ঠিক আগ মুহূর্তে এই গুলির ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই হামলায় ইসলামিক সেন্টারের নিরাপত্তা প্রহরীসহ তিনজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশ দ্রুত চারপাশ ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে একটি সন্দেহভাজন গাড়ির ভেতর থেকে দুই হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হামলাকারীরা কিশোর ও তরুণ, উদ্ধার হয়েছে একাধিক অস্ত্র

সান ডিয়েগো পুলিশের প্রধান স্কট ওয়াহল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, নিহত দুই সন্দেহভাজন হামলাকারীর বয়স ১৭ ও ১৯ বছর। তাদের একজন নিজের বাড়ি থেকে অন্তত তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বের হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশপ্রধান বলেন, “ধারণা করা হচ্ছে, তারা মসজিদে নির্বিচারে গুলি চালানোর পর নিজেরা আত্মহত্যা করেছে।”

মায়ের ফোন ও উদ্ধার হওয়া চিরকুট

তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার কিছু আগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের মা স্থানীয় পুলিশকে ফোন করে জানান যে, তার ছেলে পরিবারের গাড়ি এবং বেশ কয়েকটি মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে নিখোঁজ হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ যখন দ্রুত অনুসন্ধান শুরু করে, তার কিছুক্ষণের মধ্যেই মসজিদে এই হামলা ঘটে।

একসঙ্গে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বের হওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত করে যে, এটি কেবল আত্মহত্যার চেষ্টা ছিল না, বরং অন্যদের বড় ধরনের ক্ষতি করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল। পরবর্তীতে ওই কিশোরের মা তার ঘরে একটি ‘সুইসাইড নোট’ বা চিরকুট খুঁজে পান এবং পুলিশকে অবহিত করেন। তবে তদন্তের স্বার্থে চিরকুটের মূল বিষয়বস্তু এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল।

পরিচয় প্রকাশে সতর্কতা

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো সন্দেহভাজন হামলাকারী কিংবা নিহতদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী আগে ভুক্তভোগীদের পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হচ্ছে, এরপরই নিহতদের পরিচয় সংবাদমাধ্যমকে জানানো হবে। এই ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটিসহ পুরো সান ডিয়েগো এলাকায় গভীর শোক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।