৫০

বিরোধী দলের আপত্তির মুখে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলন করতে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন, যা সেভাবেই পাস হয়।

সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। এর আগে (কুমিল্লা-৪) আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ) আপত্তি তুললে তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়। বিলটি পাসের ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারিকৃত অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রণীত ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার আইন পুনঃপ্রচলন হবে।

বিল উত্থাপনে আপত্তি জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, আজ যাঁরা সরকারি বেঞ্চে রয়েছেন, তাঁরা চব্বিশের জুলাইয়ের আগে হলে এই বিল পাসের বিরোধিতা করতেন। এই অধ্যাদেশকে ল্যাপস করার মাধ্যমে মানবাধিকার কমিশনকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘আমরা ইতিহাস থেকে কোনো শিক্ষা নিই না। এটা এই বছর পাস না করি, আগামী বছর পাস না করি, সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে হয়তো ল্যাপস করা যাবে, কিন্তু এই সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পাস হবেই হবে।’

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে যে পাটাতনের ওপর সবাই অবস্থান করছেন, সেই ক্রান্তিকাল অতিক্রম করেই এখানে আসা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন নিয়েই তিনি আপত্তি তুলেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য দুই মিনিট সময় অপ্রতুল বলে মন্তব্য করেন। এ সময় স্পিকার মাইক বন্ধ করে দিলে তিনি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানান।

পরবর্তীতে সময় বাড়িয়ে দিলে হাসনাত বলেন, প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন পুনঃপ্রচলন করা হচ্ছে। তার মতে, গত ১৭ বছরে এই আইনের প্রয়োগ নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে এবং একে ‘বিরোধী দল ও মত দমন কমিশন’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দমনে এ কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় বিভিন্ন বাহিনীর সম্পৃক্ততার কথাও উঠে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, কমিশনের গঠনপ্রক্রিয়ায় সরকারের প্রভাব থাকায় এর স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে হলে সরকারের পূর্বানুমতি প্রয়োজন হওয়ায় তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও এ বিষয়ে আরও সময় ও আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পরে স্পিকার অতিরিক্ত সময় প্রদান করেন। শেষ পর্যন্ত কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয় এবং ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলনের পথ সুগম হয়।