৫৫

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ‘ডিপ বায়িং’ বা কম দামে কেনার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে শক্তিশালী মার্কিন ডলার ও উচ্চ তেলের দাম বৃদ্ধির এই ধারা কিছুটা সীমিত করছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৫৫ দশমিক ৮৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও দিনের শুরুতে এ বৃদ্ধির হার প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্বর্ণের ফিউচার বা আগাম সরবরাহ মূল্য শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৮০ দশমিক ৫০ ডলারে অবস্থান করছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইস্টার উৎসবের ছুটির পর লেনদেন স্বাভাবিক হতে শুরু করায় অনেক বিনিয়োগকারী কম দামে স্বর্ণ কেনার সুযোগ নিচ্ছেন, যা দামকে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী রাখছে। তবে মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান স্বর্ণকে অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য তুলনামূলক ব্যয়বহুল করে তুলেছে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলেও চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক টানা প্রায় ১৭ মাস ধরে স্বর্ণ কেনা অব্যাহত রেখেছে। মার্চ মাস শেষে দেশটির মোট স্বর্ণ মজুত দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ট্রয় আউন্সে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে চীন ধারাবাহিকভাবে তাদের স্বর্ণ ভান্ডার বাড়াচ্ছে।

স্বর্ণের দাম কিছুটা বাড়লেও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারে দরপতন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭২ দশমিক ১২ ডলারে নেমেছে। পাশাপাশি প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও ১ দশমিক ৭ শতাংশ করে কমেছে।

দেশীয় বাজারে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১ হাজার ১৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।