৫৯

মুসলমানদের প্রথম কিবলা ও তৃতীয় পবিত্রতম স্থান পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা চালিয়েছে একদল কট্টরপন্থী উগ্র ইহুদি। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই আল-আকসা প্রাঙ্গণ থেকে ছাগলসহ উগ্রপন্থিদের আটকে দেয় ইসরায়েলি পুলিশ। এই উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৩ জন ইহুদি উগ্রবাদীকে আটক করা হয়েছে।

গত শুক্রবার (২২ মে) ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব ‘শাভুত’ (Shavuot) উপলক্ষে আল-আকসা প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তারা এই অপচেষ্টা চালায় বলে জানা গেছে।

দুই হাজার বছর ধরে বন্ধ ধর্মীয় আচার

ঐতিহাসিকভাবে ইহুদিরা আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণকে ‘টেম্পল মাউন্ট’ নামে অভিহিত করে থাকে। তাদের বিশ্বাস, প্রায় দুই হাজার বছর আগে এই স্থানেই তাদের পবিত্র সুলেমানী মন্দির ছিল, যা পরবর্তীতে রোমান বাহিনী ধ্বংস করে দেয়।

ইতিহাসবিদদের মতে, রোমানদের হাতে প্রাচীন স্থাপনা ধ্বংস হওয়ার পর থেকে বর্তমান আল-আকসা মসজিদ এলাকায় কখনো কোনো ইহুদি ধর্মীয় নিয়মে পশু জবাই বা উৎসর্গ করা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী ও উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো আল-আকসা চত্বরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে তাদের প্রাচীন ধর্মীয় আচার ও কোরবানি পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে মুসলিমদের তীব্র প্রতিরোধ ও বৈশ্বিক চাপের মুখে অতীতের মতো এবারও তাদের সেই চেষ্টা সফল হয়নি।

বিদ্যমান ‘স্ট্যাটাস কো’ ও বেন-গভিরের উস্কানি

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা আন্তর্জাতিক ও ধর্মীয় নিয়ম (Status Quo) অনুযায়ী, আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদিদের প্রবেশাধিকার থাকলেও সেখানে তাদের উচ্চস্বরে বা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ধরণের প্রার্থনা কিংবা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কেবলমাত্র মুসলিমরাই এই চত্বরে নামাজ ও ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেন।

তবে ইসরায়েলের বর্তমান কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই ঐতিহাসিক নিয়ম ভাঙার জন্য উগ্রপন্থিদের প্রতিনিয়ত উস্কানি দিয়ে আসছেন বলে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র অভিযোগ রয়েছে। স্বয়ং বেন-গভির কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে একাধিকবার আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে ইহুদিদের নিয়ে প্রার্থনা করেছেন, যা মুসলিম বিশ্বের পাশাপাশি জাতিসংঘেও তীব্র নিন্দার ঝড় তুলেছে।

আন্তর্জাতিক চাপ ও নেতানিয়াহুর অবস্থান

মন্ত্রী বেন-গভিরের এসব উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড ও আল-আকসায় বারবার ইহুদিদের আগ্রাসনের কারণে মুসলিম বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা এড়াতে অতি সম্প্রতি নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে এক বিবৃতিতে জানান, আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইহুদিদের প্রার্থনার ওপর নিষেধাজ্ঞা এখনো বলবৎ রয়েছে এবং এর কোনো পরিবর্তন হবে না। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পরেও বাস্তবে প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি বাহিনীর সহায়তায় উগ্র ইহুদিদের আল-আকসায় অবৈধ প্রবেশ, ভাঙচুর ও উস্কানিমূলক প্রার্থনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, যা ওই অঞ্চলের শান্তিশৃঙ্খলাকে প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে ফেলছে।