৪৯

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি আসায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এতে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি খাতে স্বস্তি ফেরার আশা তৈরি হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলমান সংকট কাটতে আরও সময় লাগবে। বিশেষ করে দামের বিষয়টি নিয়ে সরকারের উদ্বেগ এখনও রয়ে গেছে। তাদের মতে, অন্তত আরও দুই মাস তুলনামূলক উচ্চ দামে জ্বালানি আমদানি করতে হতে পারে বাংলাদেশকে। এর মধ্যে আবার সংঘাত শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক জানান, চুক্তিভিত্তিক এলএনজির দাম তাৎক্ষণিক আন্তর্জাতিক বাজারদরের ওপর নির্ভর করে না। বরং নির্দিষ্ট সময়ের গড় মূল্যের ভিত্তিতে তা নির্ধারিত হয়।

তিনি বলেন, মে মাসের আমদানির মূল্য নির্ধারিত হবে ১৬ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত গড় দামের ওপর। একইভাবে জুন মাসের হিসাব করা হবে মার্চ-এপ্রিলের গড় দামে, যখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম তুলনামূলক বেশি ছিল।

এদিকে বিদ্যুৎ খাতেও চাপ বাড়ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশি-বিদেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে সরকারের বকেয়া বিল দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। কোম্পানিভেদে বর্তমানে ছয় থেকে ১৪ মাস পর্যন্ত বিল পরিশোধ বকেয়া রয়েছে।

এই বকেয়ার কারণে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র আর্থিক চাপে পড়েছে। তারা একদিকে জ্বালানি আমদানি করতে পারছে না, অন্যদিকে ব্যাংক ঋণের চাপও বাড়ছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, পূর্ববর্তী সরকারের সময় থেকেই এ বকেয়া সমস্যার সূত্রপাত, যা সময়ের সঙ্গে আরও জটিল হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছু অর্থ পরিশোধ করা হলেও গত বছরের জুলাই থেকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ আবার অনিয়মিত হয়ে পড়ে।

বর্তমানে পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বিপুল পরিমাণ বকেয়া আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।