৩৩

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে দলটির কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বিজেপির কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত চলা এ উত্তেজনায় দুই পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিজেপির কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে তাঁর বাড়ি ও দলের কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছেন। তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। ঘটনার পর রাতভর বাড়ির বাইরে অবস্থান করেন তৃণমূলের এই নেতা।

অভিষেকের জন্মদিন উপলক্ষে শুক্রবার রাত থেকেই কালীঘাটের বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছিলেন তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। অভিযোগ, রাত দুইটার দিকে সেখানে এসে বিজেপির কর্মীরা ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এ সময় অভিষেকের ছবি, কাটআউট ও ব্যানার ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। তৃণমূলের কর্মীরা বাধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

অভিষেক বাড়ির বাইরে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই পক্ষের কর্মীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সও (র‍্যাফ) মোতায়েন করা হয়।

এ সময় পুলিশের সঙ্গেও কথা-কাটাকাটিতে জড়ান অভিষেক। তাঁকে বাড়ির ভেতরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হলে পুলিশের সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। কালীঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গেও তাঁর বচসা হয় বলে জানা গেছে। পরে শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে পুলিশের হস্তক্ষেপে বাড়িতে প্রবেশ করেন তিনি।

ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিষেক দাবি করেন, তাঁর বাড়ি ও কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। দলের কয়েকজন সহকর্মী বাধা দেওয়ায় তিনি রক্ষা পেয়েছেন বলেও জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় কয়েকজন তৃণমূল কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের একজনের হাতের আঙুলের অংশ থেঁতলে গেছে এবং আরেকজনের চোখের নিচের হাড় ভেঙেছে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অভিষেকের আরও অভিযোগ, হামলাকারীদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল এবং তাঁকে লক্ষ্য করে বড় বড় ইটের টুকরো ছোড়া হয়। পুরো ঘটনা পুলিশের সামনেই ঘটেছে বলে দাবি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

নিজের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টেও হামলার অভিযোগ তুলে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন অভিষেক। সেখানে তিনি দাবি করেন, তাঁর বাড়ি ও কার্যালয়ে হামলার আগে দুই দিন ধরে নজরদারি চালানো হয়েছিল।

তবে অভিষেকের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ তাঁর অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন।

কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।