৫০

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় আট বছরের এক এতিম শিশুকে ফুসলিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আবুল হোসেন (৫০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ও তার সঙ্গীদের ক্রমাগত হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে ভুক্তভোগীর পরিবার পাঁচ দিন ধরে মামলা করতে পারেনি। পরবর্তীতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অবশেষে ঘটনার পাঁচ দিন পর পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে এবং থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

যেভাবে ঘটে নৃশংস ঘটনা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের মাঝিপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুটি অত্যন্ত অসহায় ও এতিম; তার মা মারা গেছেন এবং বাবা ভবঘুরে হিসেবে বাইরে থাকেন। শিশুটি স্থানীয় লোকজনের বাড়িতে ছোটখাটো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করত।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই (মঙ্গলবার) একই এলাকার বাছিদ মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন নাস্তা খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। শিশুটির আকুল কান্নাকাটি ও চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত আবুল হোসেন পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন।

হুমকি ও অবরুদ্ধ পরিবার

ভুক্তভোগীর স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে প্রভাবশালী অভিযুক্ত আবুল হোসেন ও তার অনুসারীরা শিশুটির পরিবার এবং সহানুভূতিশীল প্রতিবেশীদের প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। এমনকি তাদের নিয়মিত নজরদারিতে রাখা হয়, যার ফলে ভয়ে পাঁচ দিন ধরে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানানোর সাহস পাননি তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় ও পুলিশের পদক্ষেপ

ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর মিঠাপুকুর থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এরশাদ আহমেদ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। তাকে চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, শনিবার রাতে এ ঘটনায় থানায় একটি ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্ত আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।