২১২

‘এক মণ ধানের দামেও হয় না এক মণ শ্রমিকের মজুরি।’—এভাবেই আক্ষেপ প্রকাশ করছেন কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা। তাঁদের অভিযোগ, সবকিছুর দাম বাড়লেও ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না তাঁরা।

নিকলী উপজেলার মজলিশপুর এলাকার কৃষক জুলহাস মিয়া বলেন, এক মণ ধান উৎপাদনে খরচ পড়ে ১ হাজার ২০০ টাকার বেশি, অথচ বিক্রি করতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। অন্যদিকে এক দিনের ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি দিতে হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা। এতে কৃষকরা চরম লোকসানে পড়ছেন।

করিমগঞ্জ উপজেলার কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, কৃষকের ধান কম দামে কিনে মিল ও চাতাল মালিকরা আবার চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে ২৫ কেজি চালের বস্তা কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। তিনি বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এ কথাটা নীতিনির্ধারকদের মনে রাখা দরকার।”

হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি সত্ত্বেও ভালো ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় তাঁরা হতাশ। এতে ভবিষ্যতে ধান চাষে আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

করিমগঞ্জের চামড়া নৌবন্দর এলাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মণ ধান কেনাবেচা হয়। কিন্তু আড়তদারেরা ব্রি-২৯ ও হাইব্রিড ধান ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা মণ দরে কিনে নিচ্ছেন, যা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর।

কৃষক আবদুল হক বলেন, এক একর জমিতে চাষাবাদে সব মিলিয়ে খরচ হয় প্রায় ২০–২৫ হাজার টাকা, অথচ লাভ থাকে খুবই সামান্য। “ধানের দাম না বাড়লে কৃষকের মরণ ছাড়া উপায় নেই,”—বলেন তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জে এবার বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১২ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন। তবে কৃষকেরা বলছেন, উৎপাদন বাড়লেও লাভ বাড়ছে না।

কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে উৎপাদন খরচের হিসাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে ধান সময়মতো কাটার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রাকৃতিক ক্ষতি এড়ানো যায়।