৭৫

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় দেশের সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব সরকারি-বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরিচালিত হবে।

সাধারণত অফিস কার্যক্রম বিকেল ৫টা পর্যন্ত চললেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে কর্মঘণ্টা এক ঘণ্টা কমানো হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে শুক্র ও শনিবার আগের মতোই বহাল থাকবে।

এদিকে জরুরি সেবাখাতগুলোকে এই নতুন সময়সূচির বাইরে রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা সেবা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, হাসপাতাল এবং গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কর্মীরা স্বাভাবিক নিয়মেই দায়িত্ব পালন করবেন।

আদালতের সময়সূচি নির্ধারণে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। অন্যদিকে বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার কর্মঘণ্টা শ্রম আইন অনুযায়ী নির্ধারণ করবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

এর আগে ২০২২ সালেও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে অফিস সময় কমানো হয়েছিল, যা ২০২৪ সালের জুনে আবার স্বাভাবিক করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার পুনরায় সেই সাশ্রয়ী নীতিতে ফিরে এসেছে।

ব্যাংকিং খাতেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। বাংলাদেশ ব্যাংক-এর নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোতে লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। তবে দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিসে থাকতে হবে। সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের শাখা, উপশাখা ও বুথগুলো আগের মতোই ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে।

এছাড়া দেশের সব বিপণিবিতান, মার্কেট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও অফিস ভবন সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ী নেতারা সময় বাড়ানোর দাবি জানালেও আপাতত মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই সময়সীমা বহাল রাখা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীরে ক্লাস চালুর একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে। তবে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাস বাস্তবায়নে কিছু সীমাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের অনলাইন শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুতই বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

সরকার আশা করছে, রমজান ও ঈদের দীর্ঘ ছুটির পর জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গৃহীত এসব পদক্ষেপ দেশের অর্থনীতি ও জনসেবার ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হবে।